সেকেলে প্রেম বনাম একালে প্রেম

 

 

– প্রেম করিস না? 

– নাহ!!
– কেন!!
– কার সাথে করব?সবই তো এনগেজড ছিল কারও না কারও সাথে, কখনো বা কখনো( নো অফেন্স)

যেকোন আড্ডায় সিংগেল থাকা কোন মেয়ে বা ছেলেকে প্রশ্ন করুন।উত্তর এটাই মিলবে।একটা সময় প্রেম হতো মালা সিনহা – উত্তম কুমার স্টাইলে।
ছেলে বা মেয়েকে হতে হত ক্রিয়েটিভ,চপল, চতুর।
তারা হাত ধরতে পারলেই খুশি।
সমরেশ সুনীলরা সেসময়ের প্রেমগুলা নিয়ে কত সাহিত্য রচনা করলো।।কত গোলাপি গাল রক্তিম হলো ভালবাসি শব্দটা শুনে।কিসব দিন ছিলো।

তারপর এলো সাহসের যুগ। হাত ছেড়ে হাত শরীরে উঠলো।বদ্ধ কেবিনে বন্দী দুজনে বাসি হয়ে গেল।
শহরের ফুটপাত,পিচঢালা রাস্তা কিংবা উদ্যানগুলোতে সাহসের ছড়াছড়ি।গলির মোড়ের ফুচকাওয়ালার প্লেটের দাম পাঁচ টাকা থেকে দশটাকা।তাসলিমা নাসরিনের লজ্জা কিংবা নিমন্ত্রন।অবশ্য অনেক সাহসী প্রেম শেষ পর্যন্ত সাহসী হয়ে উঠতে পারে নি।

এখন সময় শুধু প্রেম করার, সেখানে ভালবাসা নাই।
হলুদ খাম কিংবা ছোট্ট পার্সের আড়ালের চিরকুট ছেড়ে ভালবাসা গুলো প্রযুক্তির নীল দেওয়ালে নাচানাচি করে।চোখের দিকে চেয়ে সাগর দেখার বদলে বুকের দিকে তাকিয়ে শিহরনে সময় বাঁচে।
হাত ধরার শতাব্দী ব্যপী সাধনার চাইতে বিছানার যোগব্যায়াম আজকাল বেশি উপভোগ্য।প্রেমিকার মনের দাবির চাইতে প্রেমিকের শরীরের দাবি আজকাল বেশি মূল্যবান।বুকের বামপাশের ধুকপুকানির বদলে বুকের খাজে মুখ লুকানোতে বেশি সুখ, বেশি শান্তি।চাঁদের আলোতে আজকালের জুটি বিরক্ত হয়, অমবস্যার অন্ধকার তাদের কাছে প্রিয়।
গোলাপের চাইতে ওষুধের দোকানের খরচ বেশি।

নব্বই দশকের প্রেম নিয়ে যদিও সাহিত্যচর্চা করা গেছে।এখনকারগুলো নিয়ে? তওবা আস্তাগফিরুল্লাহ।
দশটা প্রেমের কাহিনী শুনে খেরোখাতায় লিখলে অন্তত সাতটায় খাতা কলম গঙ্গাজল দিয়ে বছরব্যপী ধোয়ার পর ও অপবিত্র হয়ে থাকে।কবিরা আজকাল কাব্যচর্চা করে প্রকৃতির উদহারন টেনে, মানুষ তাদের উপাদান নয়।।”তোমাকে ভীষন ভালবাসি” বলে শুরু করা প্রেমের শেষটা যদি হয় “তুমি আমাকে নষ্ট করেছ” তবে তা দিয়ে রগরগে সাহিত্য লেখা যায়, হৃদয়ছোয়া কিছু সম্ভব নয়।

যুগ যতই আধুনিক হোক, আমরা যতই মনের আগড় ভেঙে উদারমনা হই, শরীরের মধ্যভাগের পবিত্রতা এখনো সম্পর্কের জন্য বিশাল কিছু।দশটা প্রেমিকার শরীরে ভুগোলচর্চা করা ছেলেটাও বিয়ের সময় খোজে ছোয়াহীন কোন নারী।উড়নচন্ডী মেয়েটা মনে মনে আশা করে পবিত্রতম কোন ছেলে।।।

কিন্তু এখন সেটা কঠিন থেকে কঠিনতর।।
একমাত্র উপায় গর্ভবতী কোন মায়ের পেটের উপর পার্মানেন্ট মার্কার দিয়ে লিখে আসা “এই গর্ভ থেকে যে জন্ম নেবে সে আমার”। জন্মের পরে লিঙ্গভেদে নাভীর নিচে ট্যাটু করে দেয়া যে “এই ট্যাটুর চারফুট ব্যাসার্ধের ভিতরে কোন চামড়ামোড়া দ্রব্যের উপস্থিতি,স্পর্শ কিংবা অবস্থান অবৈধ ও আইনতঃ দন্ডনীয়”।।

তাহলে যদি কিছু হয়।প্রেমিকার নাভীর নিচে নীল রংয়ে আকানো অন্য পুরুষের দন্ডনীয় সাবধানবানী দেখে যদি শিথিল হয় অবৈধ প্রেমিকের উত্থিত দন্ড।।
তাছাড়া একাকী থাকা মানুষগুলাকে একাকীই থাকতে হবে,সাতপাকে বা তিন কবুলে গ্রহণ করতে হবে অন্যের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ভরা একটা ক্লান্ত দেহ।।।।

লেখা ঃ ফোরকান উদ্দিন সালমান

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × one =